Showing posts with label literature. Show all posts
Showing posts with label literature. Show all posts

02 September 2023

মাত্রাতিরিক্ত লোডিং চার্জ বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংস্থার অফিসে ইট ভাটা মালিকেরা


 ওয়েবডেস্ক, কথাবার্তা, ২ সেপ্টেম্বর: মাত্রাতিরিক্ত সর্বনিম্ন লোডিং চার্জ হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার আবেদন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুত উন্নয়ন সংস্থার(WBSEDCL) অফিসে ইট ভাটা মালিকেরা। শুক্রবার বেলা ৩টা নাগাদ বেলডাঙ্গা-১ ব্লক ব্রিক ফিল্ড ওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা জেলা ইটভাটার সভাপতিকে নিয়ে জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংস্থার রিজ্যুওনাল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সেখানে থেকে জানা গেছে যে, রাজ্যের সমস্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রাহকদের সর্বনিম্ন চার্জ প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে গতমাস থেকে। অন্যান্য  ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যবসা সারা বছর চালু থাকলেও ইট ভাটার ব্যবসা বছরে পাঁচ মাস চলে এবং সাতমাস বন্ধ থাকে।সর্বনিম্ন চার্জ হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাটা মালিকদের এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাই আজ ভাটা মালিকেরা বাধ্য হয়ে বহরমপুর জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন সংস্থার (WBSEDCL) রিজ্যুওনাল ম্যানেজার স্বপন কুমার মন্ডলের সঙ্গে দেখা করে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে। 



 মুর্শিদাবাদ ডিসট্রিক্ট ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল বাকি সেখ জানান, ম্যানেজার সাহেব আমাদের এনার্জি চার্জ কিছুটা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন,সেই  সঙ্গে এক বছর পরীক্ষা মূলকভাবে চালিয়ে দেখতে বলেছেন ও সমস্যা হবে না বলেও জানিয়েছেন। তারপরেও যদি সমস্যা হয় তাহলে ম্যানেজার সাহেব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। এছাড়াও কোন কোন ইট ভাটা মালিকের অজ্ঞতার কারণে লোড বেশি থাকায় সর্বনিম্ন চার্জ বেশি আসছে বলে তিনি মনে করেন। এক্ষেত্রে ভাটা মালিকেরা লোড কমাতে চাইলে তাদের ট্রান্সফর্মা পরিবর্তন করে অল্প পাওয়ারের ট্রান্সফর্মা দেওয়া হবে বলেও পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর ভাটা মালিকেরা কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।

10 April 2020

লকডাউনের জেরে বন্ধ হল গাজনের বোলান গান

ছবিঃ ফাইল সংগ্রহ 

ওয়েবডেস্ক, কথাবার্তা, বেলডাঙা, ১০ এপ্রিলঃ করোনা আতঙ্ক বিশ্ব জুড়ে। দেশে চলছে ২১ দিনের লকডাউন। সব রকম জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। বাংলা বছর বিদায় নিতে দেরি আর কয়েক দিন মাত্র। বছর শেষে বাংলার সবচেয়ে অন্যতম বড়ো উৎসব শিবের গাজন। শিবের গাজনকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বর্ধমান, বীরভূম জেলায় বোলান গানের আসর বসে। উপচে পড়ে আসর ভর্তি দর্শক। ২৭ থেকে ৩১ শে চৈত্র টানা ৫ দিন বোলান গানের আমেজে মেতে ওঠে বঙ্গভূমি। বোলান গান বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় লোক সংগীত। কয়েক শতাব্দী প্রাচীন প্রবাহমান এই বোলান গানের ধারায় কাল হয়ে দাঁড়াল করোনা ভাইরাস। করোনার জেরে লকডাউনের ফলে এবছর আর বোলান গানের আসর কোথাও বসবে না। পুজো কমিটি গুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুটি কয়েক সন্ন্যাসী বা ভক্ত নিয়ে শুধুমাত্র শিব পুজো হবে, তবে কোনো রকম জমায়েত ছাড়াই। এবছর বঙ্গ সংস্কৃতির বছর শেষে আনন্দটুকু কেড়ে নিল করোনা ভাইরাসের থাবা। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়ে পরের বছর বোলান গানের আসরে মেতে উঠবে আবার বাংলার মাটি - অন্তত এই আশা নিয়ে বুকে নিয়ে নতুন আলোর আশায় প্রহর গুনছে মানুষ। দেশ ও রাজ্যের মঙ্গলে বোলানের আনন্দটুকু এবছর নয়তো লকডাউন করে রাখা যাক বুকের ভেতরে। 

27 August 2019

সমাজের প্রতিফলিত দর্পন রাজকুমারের কলম


ওয়েবডেস্ক, কথাবার্তা, দাবিরুল ও ইনজামাম, বেলডাঙা, ২৭ আগস্টঃ মুর্শিদাবাদের কথাশিল্পী, বাংলা ও বাংলার বাইরে যার আধিপত্য। কবিতা দিয়ে শুরু যার লেখালেখি। হঠাৎ করেই গদ্যে বিচরণ। সেটা নব্বই দশকে। তিনি হলেন  মুর্শিদাবাদের অন্যতম কথাকার রাজকুমার শেখ। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার মাঝপাড়া গ্রামে বাসিন্দা রাজকুমার শেখের জন্ম একটা সাধারণ পরিবারে। দারিদ্রতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন। আশির দশকের শেষাশেষি তিনি কবিতা লেখতে শুরু করেন। প্রথম কবিতা প্রকাশ পাই হরেকনগর এ এম ইন্সটিটিউট স্কুল ম্যাগাজিনে। তারপর জেলা তথা জেলার বাইরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তিনি নিয়মিত ভাবে লেখতে শুরু করেন। তাঁর প্রথম ছোটগল্প প্রকাশ পাই 'আজকের প্রহরী' পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যায়। পরে তিনি উপন্যাস লিখতে শুরু করেন। প্রথম উপন্যাস নব্বই দশকে 'বনমালী পুরের চিঠি' ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় 'লটারী সংবাদ'এর সাহিত্য পাতায়। তারপর একের পর এক উপন্যাস বের হতে থাকে - শারদীয়া দৈনিক ত্রিপুরা দর্পণ পত্রিকা 'লালমোহর' (২০১৬), 'আটপ্রহর' (২০১৭), 'অন্তর কথা' (২০১৮), 'বৃষ্টির পরে' (২০১৯); উৎসবের 'আরম্ভ' পত্রিকা 'পোড়ামাটির গন্ধ' (২০১৭);  'খোলা চিঠির' শারদীয়া সংখ্যার 'স্বপ্ন' পত্রিকাতে 'ডোলা বিবি' (২০১৭), 'ঝুম বৃষ্টি' (২০১৯); এছাড়াও ত্রিপুরার অন্যপ্রিয় কাগজে প্রকাশিত হয় 'নীল জলের ঢেউ' (২০১৮), ও 'নোনা ঢেউ' (২০১৯)। উপন্যাস ছাড়াও তাঁর ১০০ টির বেশি ছোটগল্প বাংলা, ত্রিপুরা ও আসামের জনপ্রিয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখায় বারবার উঠে এসেছে সাধারণ জনজীবনের কথা, নদীর কথা, জেলেদের কথা, ভাঙন মানুষের কথা। আজও তিনি খুঁজে বেড়ান সেইসব হারিয়ে যাওয়া মানুষদের। তাঁর 'লালমোহর' উপন্যাসে উঠে এসেছে বাংলা শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদৌলার কথা। বাংলার পঞ্চায়েত রাজের জ্বলন্ত রাজনীতিকে তুলে ধরেছেন তাঁর 'পোড়া মাটির গন্ধ' উপন্যাসে। এই উপন্যাসে তাজদ্দিন চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যের এক অভিনব সৃষ্টি। তাঁর আর এক জীবন ভাঙনের উপন্যাস 'নোনা ঢেউ'। এখানে ফুটে উঠেছে বিপন্ন জেলে জীবনের কথা। 
শত বাধাবিপত্তিকে অতিক্রম করে রাজকুমার শেখের কলম যেন মানব সমাজের এক প্রতিফলিত দর্পণ। তিনি মুর্শিদাবাদ তথা বাংলার মানুষের গৌরব। তাঁর লেখনী ধারা বাংলা সাহিত্যকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি করে চলেছে।


11 May 2017

প্রযুক্তির যুগে পিছিয়ে নেই গ্রামের প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষও : এক অন্য গল্প


ওয়েবডেস্ক, নিজামুদ্দিন সেখ, রেজিনগর,  ১১ মে : সময়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে সভ্যতা উন্নত প্রযুক্তির চরম সীমায়। এগিয়ে গেছে শহর, শহরের প্রশিক্ষিত সমাজ। তাই বলে পিছিয়ে নেই প্রান্তিক গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষও। হয়ত কাঁধে কাঁধ রেখে চলতে পারেনি তবুও ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে তারা। এমনই আশা ব্যাঞ্জক ছবি ধরা পড়ল মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের প্রত্যন্ত গ্রাম দাদপুরের রাস্তায়।
     মুর্শিদাবাদের অন্যতম একটি কুটির শিল্প বিড়ি। যা হত দারিদ্র পরিবারের জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এই শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি হল কাঁচি ছুরি। এগুলি নির্দিষ্ট সময় শান দিতে হয়। শান দেওয়ার কাজটা করেন এক শ্রেণির ভ্রাম্যমান শানদেওয়ালা ব্যবসায়ী।যারা খুব অল্প পারিশ্রমিক নিয়ে পাড়ায় পাড়ায়, অলিতে-গলিতে 'কাচি শানাও গো- কাচি' বলে হাক দিয়ে যায়।


      এমনই এক শানদেওয়ালা হলেন দাদপুরের আলাই মিস্ট্রি। যিনি গ্রামের পথ বেয়ে নিরন্ত্রণ হেটে চলতেন রোজগারের আশায় বাড়ি বাড়ি। আগে কাচি শানায়ের যন্ত্র ছিল কাঠের পাঠাতনের উপর বসানো গোলাকার ঢালায়ের চাকতি। কাঁধে করে হেটে হেটে এই যন্ত্র বহন করতে হত। প্রচন্ড ভারি ছিল। বহন করার সময় ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসত। তারপর কি করলেন আলাই মিস্ট্রি জানালেন নিজের মুখে, 'কাঁধে করে মেশিন বহন ছিল কষ্টসাধ্য। মেশিন পায়ে করে চালাতে হত। বেশিদূর যেতে পারতাম না। রোজগার হত নামমাত্র। তারপর সাইকেলের প্যাডেলের সাথে ফিট করি। ফলে সাইকেল চালনোর সাথে শান মেশিন চালানো ও যাতায়াত উভয়ই সুবিধা হয়। একদিন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিছু মিস্ট্রিদের সহযোগিতায় মোটর বাইকের মোটর ও গিয়ার বস্কের সঙ্গে সংযোগকারি ফিতের মাধ্যমে যুক্ত করলাম শান যন্ত্রকে। ফলে বাইকে চাবি অন করলে শানমেশিনও চালু করা যায়। এখন বেশি গ্রাম ঘুরা যায়। রোজগারও বেশি হয়। কষ্ট আগের তুলনায় কমে গেছে। বাড়িতে ছ-টি ছেলে-মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি।'
     পেছনে ঠেলি যারে সেকি সত্যিই পেছনে টানে ! নাকি আপনার নিয়মে নিজের খেয়ালে এগিয়ে চলে প্রযুক্তি উন্নতির পথে ! আপাতত সেদিকে তাকিয়ে ভাবী কাল।


08 March 2017

মুর্শিদাবাদের নদনদী ও চাঁদ সওদাগরের যাত্রাপথ

রাজকুমার সেখ

ভাণ্ডারদহ বিল (Bhandardah Bil)               ছবি: দীননাথ মণ্ডল 

 মুর্শিদাবাদ জেলা, এই অঞ্চলটি হচ্ছে নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমিতে অবস্থিত উত্তরে পার্বত্য অঞ্চলপশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ এই সমভূমিতে পড়ে এই জেলা হচ্ছে বাগড়ি অঞ্চল। ভাগিরথী নদী মুর্শিদাবাদ জেলাকে দু’ভাগে ভাগ করেছেপূর্বদিকে পদ্মা ও ভাগিরথী ‘বাগড়ি’ অঞ্চল ও ভাগিরথীর পশ্চিমদিকে ময়ূরাক্ষী ও ভাগিরথী অববাহিকা ‘রাঢ়’ অঞ্চলতবে এই জেলার বেশি অংশটাই বাগড়ি অঞ্চলআর বাকি অংশটুকু রাঢ় ভূমিতে মিশে 

03 March 2017

মুর্শিদাবাদের একটি অপ্রকাশিত ইতিহাস

মুকতাদির হোসেন মোল্লা  II
   

দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে সে অনেক দিনের কথা, তা নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। আবার কিছু ঘটনা যা লোক চক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেছে। এখনও অনেক বয়স্ক মানুষ বেঁচে আছেন, তাদের স্মৃতির মণিকোঠায় সঞ্চিত আছে সেসব কিছু ঘটনাআবার অনেক ঘটনা ইতিহাসের পাতায় ঠাই পাইনি, স্মৃতি হিসাবে যা এখনও বর্তমান। কিছুদিন পর তাও জলের গভীরে তলিয়ে যাবে।

23 January 2017

সম্প্রীতির বন্ধনে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ও মুর্শিদাবাদ

দীননাথ মণ্ডল
হলওয়েল মনুমেন্ট, কলকাতা (Holwell Monument, Kolkata), ছবি: ইন্টারনেট সংগ্রহ 

গুরু দেশবন্ধু সব সময় বলতেন-‘হিন্দু-মুসলমানের মিলিত শক্তি ছাড়া ব্রিটিশ আমলাতন্ত্রকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়’। গুরু চিত্তরঞ্জন দাশের বাণী বুকে নিয়ে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ছুটে বেড়িয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তাঁর ফরওয়ার্ড ব্লক দল প্রতিষ্ঠার (৩ মে, ১৯৩৯ সাল) পরই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ভারতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল। ভারতবাসীর সমর্থন পেতে তিনি নিজেই নেমে পড়লেন দলের প্রচার কাজে।